বহু প্রতিক্ষার পর দোয়েল বাজারে এসেছিল। দোয়েল বাজারে আসার আগে মানুষের মনে দোয়েল নিয়ে বেশ ভালই উদ্বেগ ছিল। কিন্তু কিসের কি? দোয়েল বের হয়েই যত্তসব কান্ড ঘটল ! এটার ব্যটারি নাকি শুধু তিন সেলের তাই চার্জ নাকি শুধু ১ ঘণ্টা থাকবে ! শুধুমাত্র এইটুকু কথাই আর কিছু না। শুরু হয়ে গেল দোয়েলের দুর্নাম ! যে দোয়েল কোনদিনই চোখ দিয়ে দেখেনি সেও বলে “দোয়েলও একটা ল্যাপটপ, তেলাপোকাও একটা পাখি” ! মর জ্বালা ! দেশী জিনিসটার এভাবে দুর্নাম ছড়ানোর কোন মানে হয়? আরে ভাই আপনি তো দোয়েল চোখেই দেখেননি তাতেই মন্তব্য শুরু করে দিলেন ! কি আশ্চর্য ! শুধুমাত্র একটা জিনিস দিয়েই পুরো দোয়েলটাকে খারাপ বানিয়ে ফেললেন?

যাহোক এখন যারা দোয়েল কিনে ঠকেছেন তাদের কথায় আসি। এখানে ঠকানো বললে ভুল হবে তবে অনেকের মতেই এটি ঠিক কারণ তারা দোয়েল নিয়েই পড়েছেন যত বিপাকে ! আমি এখানে দোয়েলের একটুও দোষ দিব না ! কেন জানেন? কারণ এটার দাম মাত্র ১৪ হাজার টাকা ছিল (বর্তমানে ১৭হাজার) । ল্যাপটপের গুনাগুন নাহয় বাদই দিলাম এই ১৪ হাজার টাকায় একটা জলজ্যন্ত কম্পিউটার পাচ্ছেন তাও হচ্ছেনা? আচ্ছা আপনি হিসেব করে দেখেনতো যে, ১৪ হাজার টাকায় যদি একটা ডেক্সটপ কম্পিউটার সাজায়ে নিতেন তাহলে সেটার কোয়ালিটি কেমন হত? ও হ্যা বলে রাখা ভাল যে, ডেক্সটপ কিন্তু ব্যাটারি দিয়ে চলে না।

আজকে দোয়েল কিনে যারা বলছেন যে, এটি ফাল্তু, তারা আসলে এই বিষয়গুলি কখনো চিন্তাই করে দেখেননি। আচ্ছা আপনারই চিন্তা করে দেখুন আপনি ১৪ হাজার টাকার ল্যাপটপে যদি হাই কোয়ালিটির গান/মুভি, হাই কোয়ালিটির গেম, হাই কোয়ালিটির সব সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চান তাহলে কি করে হবে? এত হাই হাই বিনোদনতো ভাই আপনার পোষাবে না। আপনার যদি এতই বিনোদনের শখ তাহলে হাই দাম দিয়ে হাই কোয়ালিটির ল্যাপটপ কিনুন। খামখা স্টক সিমিত দোয়েল কিনে অন্যের হক নষ্ট করার দরকার নাই। যারা অল্পতেই সন্তুষ্ট তাদের জন্যই দোয়েল।

আমি উপরের কথাগুলি লিখেছি কারণ আমি দোয়েল ব্যবহার করছি আর এটিতে আমার এখন পর্যন্ত কখনো সমস্যা হয়নি। আমি মূলত বেশি চালাই না চালান আমার বাবা। ল্যাপটপটিতে স্বাভাবিক যত্ত কর্মকান্ড আছে সব ঠিকঠাক ভাবেই করা যায়।

যাহোক এখন আসা যাক মূল প্রসঙ্গে। আমার বাবা পেশায় ইলেকট্রনিক্স মেকার। তিনি মেকার মানুষ হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন রকম ছোটখাট গবেষণা সবসময় করেন। আর সেই ধারাটি বজায় রাখতে গিয়ে ল্যাপটপেও হালকাপাতলা গবেষানা করেন চার্জ থাকার ব্যাপারটি নিয়ে।

আসুন দেখা যাক কিভাবে দোয়েলে এতক্ষণ চার্জ রাখবেন-

প্রয়োজনীয় সরঞ্জামঃ

১। ১২ ভোল্ট এর ব্যাটারিসহ ইউপিএস। বাসায় যদি ভাল পুরানা UPS থাকে তাহলেও হবে। যদি UPS থাকে কিন্তু UPS টির ব্যাটারি নষ্ট থাকে তাহলে বাজার থেকে একটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি কিনতে পারেন।

২। লাল+কালো ৫ গজ দুইটি তার। বেশিও নিতে পারেন আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী

৩। ল্যাপটপের চার্জার পিন ( যে দোকানে এসব কিনতে যাবেন সেখানে আপনার ল্যাপটপ এর চার্জারটাও নিয়ে যাবেন কারণ ওই পিনটা দেখেই আপনাকে আরেকটা পিন কিনতে হবে।)

দামঃ

১। একটি UPS এ দাম ৩ হাজার থেকে ৩৫ শত টাকার মধ্যেই পাওয়া যাবে কমেও পেতে পারেন কারণ আমার বাজার মার্কেট সঠিক জানা নেই। এবং শুধু ব্যাটারির দাম ১ হাজার থেকে ১২শত টাকার মত নিতে পারে।

২। তারের দাম মান অনুযায়ী নিতে পারে অর্থাৎ আপনি যেরকম ভাল তার নিবেন সেরকম দাম নিবে। আমি ৪০/৭৬ তার ব্যবহার করেছি। দোকানদারকে চল্লিশ/সিয়াত্তর তার বললেই দিয়ে দেয়ার কথা। এটার ১০ টাকা করে গজ নিতে পারে।

৩। ল্যাপটপের চার্জার পিনটার দাম ৫-৬ টাকা নিতে পারে

প্রক্রিয়াঃ

১। আপনার কেনা তারটির নিচের ছবিটির মত লাল তারটি ছোটমাথাটাতে এবং কালো তারটি বড় মাথাটাতে লাগান

২। আপনার আপনার UPS টি খুলুন। খুললেই UPS টির নিচের মত একটি ব্যাটারি পাবেন। ব্যাটিরিটির লাইনগুলি খুলে UPS থেকে আলাদা করুন কিংবা ভিতরে রেখেও কাজ করতে পারেন

৩। এবার পিন লাগানো তারটির লাল তারটি ব্যাটারিটির + (প্লাস) এর কানেক্টরে লাগান এবং কালো তারটি – (মাইনাস) এর এ কানেক্টরে লাগান

৪। এবার পিনটি আপনার দোয়েল বেসিকে লাগান দেখবেন চার্জার Plugged in দেখাচ্ছে। তবে এই অবস্থায় আপনার ল্যাপটপের ভিতরের ব্যাটারিটি চার্জ হবে না।

৫। ব্যাস এবার ব্যবহার করা শুরু করে দিন।

৬। ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে ব্যাটারিটি পূণরায় UPS এ লাগিয়ে চার্জ দিয়ে নিতে পারবেন। ব্যাটারিটি বারবার খুলা লাগানো না করতে চাইলে UPS থেকে ব্যাটারির লাইনদুটি দিয়ে বাহির থেকেই চার্জ দিন।

সাবধানতাঃ

১। UPS এ ব্যাটারি লাগিয়ে চার্জ অবস্থায় কখনোই ল্যাপটপের লাইন লাগিয়ে ব্যবহার করবেন না।

২। লাইনগুলি সাবধানে লাগালালি করবেন উল্টাপাল্টা হলে ল্যাপটপ ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে।

৩। এই পদ্ধতিতে ল্যাপটপটি চালানোর জন্য আপনার ল্যাপটপে কমপক্ষে ১৫% চার্জ থাকতে হবে

সতর্কতাঃ

১। এই পদ্ধতিটি শুধুমাত্র দোয়েল বেসিক মডেলের ল্যাপটপে পরীক্ষিত। তাই অন্য কোন ল্যাপটপে এই পদ্ধতি নাও খাটতে পারে।

কিছু প্রশ্নের উত্তরঃ

প্রশ্নঃ আমি যদি অন্য ল্যাপটপে এইরকম করতে চাই তাহলে কি সম্ভব?
উত্তরঃ আমি অন্য কোন ল্যাপটপে এটি ট্রাই করিনি। তাই সঠিক বলতে পারবোনা। যদি অন্য ল্যাপটপে ট্রাই করতে চান তাহলে নিজ দ্বায়িত্বে করতে পারেন এরজন্য লেখক দায়ী থাকবে না।

প্রশ্নঃ এসব করতে তো বাড়তি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা লাগবে তাহলে এটা করে কি লাভ?
উত্তরঃ এটা মেইন যেটা লাভ সেটা হল ১৬ ঘণ্টার বেশি চার্জ থাকে এমন কোন ল্যাপটপ এত কম দামে বাজারে নেই। ১৪ হাজার টাকার দোয়েলের সাথে ৩ হাজার টাকা যোগ দিলে ১৭ হাজার টাকা হয়। আর ১৭ হাজার টাকা দিয়ে ১৬ ঘন্টারও বেশি চার্জ থাকে এমন ল্যাপটপ কেনা সম্ভব বলে মনে হয় না।

প্রশ্নঃ আমি সবগুলিই করলাম কিন্তু হিসেব করে দেখলাম ১৬ ঘণ্টা থাকছে না।
উত্তরঃ আপনার UPS এর ব্যাটারি যদি ভাল মানের হয় তাহলে অবশ্যই ১৬ ঘণ্টার বেশি চার্জ পাবেন নাহলে কিছু কম পেতে পারেন।

প্রশ্নঃ এরকম করলে কি ল্যাপটপ এর ওয়ারেন্টি নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তরঃ এই ব্যাপারে আমার সঠিক জানা নেই। তবে এটিতে ওয়ারেন্টির নষ্ট না হওয়ারই কথা।

প্রশ্নঃ এতে কি ল্যাপটপ এর ভিতরের ব্যাটারিটির কোন ক্ষতি হতে পারে?
উত্তরঃ নাহ তেমন কোন ক্ষতি নেই। আমার ব্যাটারি এখনও ঠিকঠাক আছে।